একাদশ সংসদ নির্বাচন ২৮ ডিসেম্বর

চলতি বছরের ২৮ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে সরকার। ডিসেম্বরের ২৮ তরিখে ভোটের দিন রেখে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে ঐ মাসের ১৮ তারিখও রাখা হয়েছে। একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সরকার যে কোন সময় ইসিকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্দেশ দিলে আইন অনুযায়ী ইসি তা কারতে বাধ্য থাকে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, সংসদ নির্বাচনের জোরপ্রস্তুতি চলছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। সীমানার কাজও দ্রুত হবে। নির্বাচনী সামগ্রী কেনাকাটার কাজ শুরু হচ্ছে। এক্ষেত্রে সিল, প্যাড, অমোচনীয় কালির, সুই-সুতা, বিভিন্ন ধরনের খাম, মোমবাতিসহ আরও অনেক নির্বাচনী সামগ্রী প্রয়োজন হয়, এসব কেনাকাটার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ভোট (একাদশ সংসদ নির্বাচন) হবে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিনতমের একটি।

রাজনৈতিক দলগুলোর দূরত্বতা সামাল দিয়ে কীভাবে এই নির্বাচন করবে তা নিয়ে চিন্তিত নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা, নির্বাচনী আইন সংস্কার, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, সংলাপে পাওয়া দলগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নসহ নানা জটিলতা নিয়েও ভাবছে বর্তমান কমিশন। সব জটিলতা মিটিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান কমিশনের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নতুন দলের নিবন্ধন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন দলের নিবন্ধন দিতে একটি কমিটি করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে কমিটি কাজও শুরু করেছে। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিটি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বৈঠক করেছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন রাজনৈতিক দলের আবেদন পর্যালোচনার জন্য একটি ছক তৈরি করা হয়েছে। ছক অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-গঠনতন্ত্র, কমিটি, জেলা-উপজেলার অফিসের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। কমিটির সদস্যরাই ৮ মার্চের মধ্যে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করবেন কয়টি নতুন দলকে নিবন্ধন দেওয়া যায়। এর আগে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দিতে গত ৩০ অক্টোবর আবেদন আহ্বান করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৩১ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল।

আইন সংস্কারের কাজও শেষ দিকে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পথ সহজ হচ্ছে। বর্তমানে সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয় মনোনয়নপত্রের সঙ্গে। সংলাপে যেসব সুপারিশ এসেছে, তার ভিত্তিতে ওই শর্ত শিথিল করে ১ শতাংশের বদলে এক হাজার ভোটারের সমর্থন দেখানোর বিধান করার পক্ষে ইসি কর্মকর্তারা। এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে পাওয়া সোয়া পাঁচশ প্রস্তাব থেকে তিন ডজন সুপারিশ বাছাই করে একটি খসড়া করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়; সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার শর্ত শিথিল করার সুপারিশও সেখানে রয়েছে। সেই সঙ্গে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-তে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ রাখা হচ্ছে।

এ ছাড়া জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও সংলাপে বিভিন্ন দল জামানতের টাকা কমানোর প্রস্তাব করেছিল। এ ছাড়া ডিজিটাল প্রচারণার বিষয়ে সতর্ক থাকবে কমিশন। চলতি মাসের মধ্যে আইন সংশোধনের কাজও শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোটার তালিকা চূড়ান্ত

সতের কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ভোটার সংখ্যা এখন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১। নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এবার ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ জন নতুন ভোটার। সব মিলিয়ে দেশের ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন ভোটারের মধ্যে ৫ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ১০৫ জন পুরুষ। আর ৫ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৬ জন নারী। অর্থাৎ ভোটার তালিকায় পুরুষ ও নারীর অনুপাত ৫০.৪২: ৪৯.৫৮।

নির্বাচনের জন্য চাওয়া হবে যে বরাদ্দ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন ও পাঁচ সিটি নির্বাচনসহ জাতীয় বাজেটে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ চাইবে নির্বাচন কমিশন। এ বছরের শেষ দিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। এর আগেই রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোট। আগামী বছরের শুরুতে হবে দেশজুড়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এদিকে এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। এবার দেশজুড়ে ভোটার রয়েছে ১০ কোটি ৪১ লাখের মতো। এতে ৪০ হাজারের মতো ভোটকেন্দ্র থাকতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখের মতো লোক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকতে পারে।

এ ছাড়া ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, নির্বাচনী সামগ্রী, পরিবহন, জ্বালানিসহ নির্বাচনী পরিচালনায় অন্তত ৬০-৭০ খাত রয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পারিশ্রমিক বেড়ে যাওয়ায় তার অনুপাতে প্রতিবারই নির্বাচনী ব্যয় বাড়ছে। ভোট গ্রহণে যতজন নির্বাচনী কর্মকর্তা লাগে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োগও দিতে হয় বেশ। এ কারণে পুরো নির্বাচন পরিচালনার ব্যয়ের একটি বড় অংশ চলে যায় আইনশৃঙ্খলা খাতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email