ঈদের ছুটি শেষে জীবিকার তাগিদে নগরে ফিরছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জীবিকার তাগিদে আবারও নগরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। ঈদুল আজহার ছুটির পর প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে মঙ্গলবার থেকে নগরে আসা শুরু করেছে মানুষ। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হয়েছে আজ। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে অফিস-আদালতের কার্যক্রম। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে নগর ফেরত মানুষের উপস্থিতি। তবে বাসে ও ট্রেনে দেখা যায়নি চিরচেনা সেই শহর ফেরা মানুষের চাপ।

আজ থেকে শুরু হচ্ছে সাপ্তাহিক কর্ম দিবস। তাই পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছে, বুধবার থেকেই শহর ফেরত যাত্রীদের চাপ বাড়বে। ফলে বুধবাররের মধ্যে পুরোনো রূপে দেখা যাবে বন্দর নগরীর চিত্র। সরকারের নিধারিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে দুই সিটে একজন বসিয়ে ৬০% ভাড়া আদায়ের করার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে দুই সিটে দুই জন বসিয়ে ৬০% বেশি ভাড়া আদায়ের। ঈদে এমন চিত্র স্বাভাবিক হলেও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত এই ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা ছিল পূর্বেই।

যদিও বা রোজার সময় ঈদে লকডাউন পরিস্থিতি এবং গণপরিবহণ বন্ধ থাকার কারণে অনেকেই এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাতায়াত করতে পারেনি, কিন্তু কুরবানির ঈদে দূরপাল্লার গণ-পরিবহনে চলাচলে সরকারি কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় এবার বেশি সংখ্যক মানুষ চলাচল করেছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে।তবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি কম হয়।

তাছাড়াও সরকারি স্বাস্থ্যবিধি যেন সবাই মেনে চলে সে ব্যাপারে জেলা উপজেলা পর্যায়ে প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিস্থিতি তদারকিতে নিয়োজিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীতে সরজমিনে মানুষের ঢল দেখা মিলে নগরের নতুন চাঁদগাঁও বাস টার্মিনাল থেকে শুধু করে নতুন ব্রীজ,একে খান, অলংকার মোড়, বিআরটিসি, কালুরঘাট বাসস্টান্ড গুলোতে। প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে এবার সময় হয়েছে পুনরায় নিজস্ব কর্মস্থলে ফেরার। তাই নগরের টার্মিনাল গুলোতে গ্রাম ছেড়ে আসা নগর ফেরত যাত্রীর ভিড়ের দৃশ্যটি নজর কেটেছে।

এদিকে নগরীর নতুন চাঁদগাঁও বাস টার্মিনালে কক্সবাজার থেকে আসা আবু নাছের নামে এক যাত্রীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ”ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করার কারণে বুধবার থেকে অফিস চালু হচ্ছে। তাই নগরীতে পুনরায় ফিরে আসলাম।”

তিনি আরও জানান,” আসার পথে সৌদিয়া কাউন্টারে নূন্যতম এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট কাটতে পেরেছি। কারণ সবাই এখন শহরমুখী হচ্ছে তাই কাউন্টারে চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়।”

অন্যদিকে গরীবুল্লাহ শাহ বাস কাউন্টারে ফেনী থেকে আসা ফাহিবা জাহান নামের এক যাত্রীর কথা হলে তিনি নাগরিক নিউজ বিডিকে জানান,”অনেক কষ্টে টিকেট পেয়েছি কারণ সবাই এখন শহরমুখী হচ্ছে। তাছাড়াও করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রোখার জন্য মানা হচ্ছে স্বাস্থ্য বিধি তাই বাস গুলোতেও নিধারিত এক সিট পর পর যাত্রী নেওয়া হচ্ছে, তাই বাস দ্রুত ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। “

তিনি আরো বলেন,”৬০% ভাড়া বাড়তি নিলেও সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি মাথায় রেখেছে বাস মালিক কতৃপক্ষ।”

তাছাড়াও ঈদের এই সময় করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী গণ-পরিবহনে চলাচলের ক্ষেত্রে। যদিও বা প্রশাসনের দাবি সাধারণ মানুষের সচেতনতা মধ্যে দিয়ে এড়ানো সম্ভব করোনা ভাইরাস।

নাগরিক নিউজ/নাহিদ/ইমন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email