ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও ইফতার মাহফিল

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য পীরে তরিকত মাওলানা সাদেকুর রহমান হাশেমী বলেন, মাদক আমাদের সামাজিক কাঠামোকে বিনষ্ট করে দিচ্ছে। আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদকসেবীরা অর্থ যোগাতে খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির মত অপরাধেও জড়িয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যত প্রজন্ম ও দেশ-জাতিকে রক্ষা করতে হলে সর্বপ্রথম এ সর্বগ্রাসী মাদক নির্মূল করতে হবে।

তিনি সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দল ও ব্যক্তি নিরপেক্ষভাবে মাদকের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করুন। সরকারি পাঁচটি সংস্থার তদন্তে যেসব গডফাদার বা পৃষ্ঠপোষকদের নাম এসেছে তাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে মাদকের মুলোৎপাটন সম্ভব নয়। মাদকের তালিকায় থাকা বর্তমান ও সাবেক ২৫ সংসদ সদস্যসহ সাড়ে চারশ জনপ্রতিনিধি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এমনকি মাদক সিন্ডিকেটে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অনেক সদস্য জড়িত থাকার বিষয়েও অভিযোগ রয়েছে, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করে কয়েকজন মাদকবাহক বা সেবক ও ক্ষুদ্র মাদকব্যবসায়ীকে হত্যা করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। কার্যকর অভিযানের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

মাদক বিরোধী অভিযান সফল হওয়ার প্রথম দুটি শর্ত হলো, মাদক ব্যবসার রুট বন্ধ করা ও মাদকে বিনিয়োগকারীদের আইনের আওতায় আনা। অথচ এ দু’টি বিষয়ে চলমান অভিযানের সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সবসময় জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সরকার যদি নিরপেক্ষভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা, ছাত্রসেনাসহ দেশের জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও ইফতার মাহফিলে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে গতকাল ২৬ মে’১৮ শনিবার বিকালে আগ্রাবাদ জামান’স চাইনিজ রেস্টুরেন্ট হলে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য পীরে তরিকত মাওলানা সাদেকুর রহমান হাশেমী (ম.জি.আ)।

প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সচিব মজলুম জননেতা কাজী সোলাইমান চৌধুরী। বিশেষ প্রশিক্ষক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিব অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন আল আযহারী, তথ্য ও প্রযুক্তি সচিব মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। ইসলামী ফ্রন্ট মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আশরাফ হোসাইন ও মাওলানা সিরাজুল মোস্তফার যৌথ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন, কর্মশালা প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা গিয়াস উদ্দীন নেজামী। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অর্গানাইজেশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (ও ই বি) সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, ইসলামী ফ্রন্ট মহানগর উত্তর সহ-সভাপতি মাওলানা শিব্বির আহমদ ওসমানী। বিশেষ বক্তা ছিলেন, যুবসেনার কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল ফোরকান হাশেমী, ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম, নগর দক্ষিণ যুবসেনার সভাপতি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, ছাত্রসেনার সভাপতি মোঃ ফোরকান কাদেরী প্রমুখ।

প্রধান প্রশিক্ষক কাযী সোলাইমান চৌধুরী বলেন, রাজনীতি হতে হবে মানবকল্যাণে। যে রাজনীতির ফলে মানুষ হত্যা করতে হয়, মানুষের ধন-সম্পদের ক্ষতি হয়, তা কখনও আদর্শিক রাজনীতি হতে পারে না। বর্তমানে মানুষের মাঝে ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক শিক্ষা না থাকায় পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, খুন-ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, রাহাজানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য আদর্শিক ও নৈতিক শিক্ষা চর্চা করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী জবরদখলের রাজনীতির বিপরীতে অহিংস রাজনৈতিক প্লাটফর্ম বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের পতাকা তলে সাধারণ জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। মহানগর ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনা নেতৃৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন, মাওলানা ইউনুচ তৈয়বী, মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান, আলহাজ্ব নাদিমুল হক রানা, মাওলানা আবু তাহের নিজামী, আলহাজ্ব মাওলানা আনোয়ার হোসাইন, মাওলানা সাঈদুল হক কাজেমী, মুহামদ শফিউল আলম, মাওলানা নুরুল কবির রিজভী, আলমগীর ইসলাম বঈদী, মাওলানা আবদুল খালেক আলকাদেরী, মাওলানা সিরাজুল মোস্তফা, মাওলানা মাহমুদুল হক, খ.ম. নজরুল হুদা, মাওলানা জহির উদ্দীন তুহিন, মাওলানা ফজল আহমদ, হাফেজ নুরুল আলম, মাওলানা মুজিবুর রহমান আলকাদেরী, হাফেজ আনছারুল হক, মাওলানা নুরুচ্ছফা আলকাদেরী, মুহাম্মদ আবদুল মান্নান সওদাগর, আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ সওদাগর, মুহাম্মদ মুফিজুর রহমান, মাওলানা সামশুল হুদা মুনির, মাওলানা মহি উদ্দীন, মুহাম্মদ ওমর ফারুক, যুবনেতা মুহাম্মদ এনামুল হক, যুবনেতা হাফেজ শিবলু, নাজিম উদ্দীন খান, ছাত্রনেতা রেজাউল করিম ইয়াছিন, তাওহিদুল আলম রিপন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email