আজিমপুর কবরস্থানে নড়ে ওঠা নবজাতকটি সত্যিই মারা গেছে

আজিমপুর কবরস্থানে দাফনের আগে গোসলের সময় নড়ে ওঠা নবজাতককে শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো গেল না। সোমবার(২৩ এপ্রিল) মধ্যরাতে নবজাতকটি ঢাকা শিশু হাসপাতালে মারা যায়।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. মো. আবদুল আজিজ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আজিজ বলেন, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র-আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নবজাতক মীম মারা গেছে। পরে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, শিশুটি সম্ভবত সাত মাসে জন্ম হয়েছিল। নবজাতকটির ওজন ছিল মাত্র ৯০০ গ্রাম। অস্ত্রোপচার ছাড়াই তার জন্ম হয়। শরীরে রক্তশূন্যতা ছিল। ওর নাভি দিয়ে রক্ত বের হয়েছিল। হার্টবিট খুবই কম ছিল। ঠিকমত শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছিল না। তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছে।

রোববার(২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শারমিন আক্তার (২৪) মেয়েশিশুটি প্রসব করেন। সোমবার(২৩ এপ্রিল) সকালে নবজাতক মীমকে মৃত ঘোষণা করে ডেথ সার্টিফিকেট দেয় ঢামেক কর্তৃপক্ষ। এরপর স্বজনরা তাকে দাফন করতে আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে গোসল করানোর সময় শিশুটি হঠাৎ নড়ে ওঠে এবং তার শ্বাস-প্রশ্বাস সচল দেখা যায়। পরে তাকে কবরস্থান থেকে প্রথমে আজিমপুর মেটারনিটিতে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নবজাতকের মা শারমিন আক্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নবজাতকটির বাবা মিনহাজ উদ্দিন। তিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। স্ত্রীসহ তিনি ধামরাইতে থাকেন।

নবজাতক মীমকে মৃত ঘোষণা করে ডেথ সার্টিফিকেট দেয়ায় বিষয়টি তদন্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপপরিচালক ডা. বিদ্যুৎকান্তি পালকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে। কমিটির বাকি তিন সদস্য হলেন- অধ্যাপক ডা. শিখা গাঙ্গুলি, ডা. মো. ফেরদৌস আহমেদ ও ডা. রওশন আরা সুলতানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email