অর্থমন্ত্রী ব্যাংকঋণের সুদের হার কমাতে উৎসাহী , বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে : এনবিআর

ব্যাংকঋণের সুদের হার কমাতে অর্থমন্ত্রী উৎসাহী মন্তব্য করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে কিছু কিছু ব্যাংক সুদহার কমাতে শুরু করেছে।’

শনিবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) আয়োজিত প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বড় বাজেটে রেভিনিউ টার্গেট বেশি হয়। তবে আমি কিছু বিষয়ে আশ্বস্ত করতে পারি। ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেব, যাতে ব্যবসা করতে পারেন। করপোরেট করের সিলিং সামান্য কমালে ইফেক্ট পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়ে। যারা আয় করে তারা ভোক্তা হয়। বাজারে দেশি পণ্যের চাহিদা বাড়ে। তাই এবারের বাজেটে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। আমাদের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে বলে কর সীমা বাড়ানোর দাবি আছে। আমাদের জিডিপি যেভাবে বাড়ছে সেভাবে করদাতা বাড়ছে না যিনি আড়াই লাখ টাকার সীমায় কর দিয়েছেন কর সীমা বাড়ালে হয়তো তিনি করের আওতায় পড়ে যাবেন। যদি করের হার কমানো হয় তবে করদাতার সংখ্যা কমবে না। প্রতিবন্ধী, নারী উদ্যোক্তাদের সুবিধা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা আছে।’
বন্দরে জট সৃষ্টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাস্টম অফিসাররা যেমন দেরি করেন তেমনি অনেক আমদানিকারকও দেরি করেন। বন্দরের পোর্ট ডেমারেজ অনেক। বন্দর জানিয়েছে, ডেমারেজ তাদের লক্ষ্য নয়। আমরা নিলাম প্রক্রিয়া দ্রুত করব। তবে ব্যবসায়ীরা সচেতন হবে।

রিফান্ড এডজাস্ট স্লো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই থেকে যারা রিফান্ড পাবে সেটি দ্রুত ফেরত দেওয়া হবে। এতে সরকারের ওপর আস্থা বাড়বে।’

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমাদের পণ্য চিহ্নিত করে সাপটা চুক্তির আওতায় আনার অনুরোধ জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

সিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় এনবিআর সদস্য ফিরোজ শাহ আলম, কানন কুমার রায়, মো. রেজাউল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চেম্বার সভাপতি শুল্ক সংক্রান্ত ১৪৮টি, ভ্যাট সংক্রান্ত ৩০টি ও আয়কর সংক্রান্ত ৪৮টি মিলে ২২৬টি প্রস্তাব এনবিআর চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেন।

চেম্বার সভাপতি ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ, নারী, প্রতিবন্ধী ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে ৫ লাখ করার প্রস্তাব দেন। তিনি কাঁচামাল ও মেশিনারি পার্টস আমদানির জন্য বছরে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত অগ্রীম পেমেন্ট (টিটি) পাঠানোর অনুমোদন দেওয়ার প্রস্তাব করেন। কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন।

পাবলিকলি ট্রেটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে কর ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে এবং প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা উচিত বলে মন্তব্য করেন মাহবুবুল আলম।

চেম্বার সভাপতি কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমাতে ব্যাংকঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার, নির্বাচনমুখী বাজেটের পরিবর্তে গণমুখী বাজেট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সারাদেশের মহাসড়কগুলোতে ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন না করে শুধু চট্টগ্রামে রাখাটা বিমাতাসুলভ আচরণ এবং এর জন্য চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান সিসিসিআই সভাপতি।

তিনি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কর্ণফুলী টানেল, বে টার্মিনালকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, নয়তো দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে কনটেইনার পরিবহন বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন চেম্বার সভাপতি।

বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন সিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, প্রকৌশলী আলী আহমদ, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি মঈনুদ্দিন আহমদ মিন্টু, জিপিএইচ ইস্পাতের উপদেষ্টা ওসমান গণি চৌধুরী, রিহ্যাব সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী, বিকেএমইএর পরিচালক শওকত ওসমান, চট্টগ্রাম হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, বাফার পরিচালক অঞ্চন শেখর দাশ, বারভিডার সাবেক মহাসচিব মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর, চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি, কক্সবাজার চেম্বার সভাপতি, রাঙামাটি চেম্বারের সভাপতি প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email