অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হবে ও মাদক নির্মূলে হুশিয়ারি করে জানিয়েছেন জিরো টলারেন্স: চট্টগ্রাম নবনিযুক্ত ডিসি

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর চট্টগ্রামের নতুন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। একইসাথে মাদকের ব্যাপারে হুশিয়ারি করে জানিয়েছেন জিরো টলারেন্স দেখাবে জেলা প্রশাসন।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি মাদক, সন্ত্রাস, পাহাড় কাটা, সরকারি বিদ্যালয় সংকট, কর্ণফুলী নদী দখলসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এবং তিনি কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানান।

পাহাড়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পাহাড় ধস ঠেকানো, কর্ণফুলী নদী ও চাক্তাই খালের দখল দূষণরোধে নতুন করে উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়ে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, প্রশাসনের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইউএনও, এসি ল্যান্ডদের ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর এল এ শাখায় যাতে মানুষের ক্ষতিপূরণের টাকা আটকে না থাকে সে ব্যাপারে কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিভাবে সেবা পৌঁছে দেয়া যায় সেই পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি সেবার উদ্ভাবনী পন্থা বের করার জন্যও কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।

এছাড়া তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ৪,২১৭ জন ভিক্ষুক চিহিৃত করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৮০ জনকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ভিক্ষুক পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাজেট চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ভিক্ষুক পুনর্ববাসন করা হবে। এছাড়া হিজড়াদের জীবন–মান উন্নয়নেও কাজ করছে জেলা প্রশাসন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে এডিসির দায়িত্ব পালনকালে কর্ণফুলী, চাক্তাই খাল ও পাহাড় ধস নিয়ে কাজ করেছি। পাহাড় ধসরোধ, যানজট নিরসনে নগরীতে তিনটি টার্মিনাল নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এখানে এডিসি থাকাকালে পাহাড় ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করেছি। যেকোন মূল্যে পাহাড়গুলোকে রক্ষা করা হবে। অবৈধ দখলদার চিহিৃত করে সীমানা পিলার স্থাপন করেছি। কর্ণফুলী নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হবে।

এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। যে কোন সময় এ উচ্ছেদ শুরু করা হবে।কর্ণফুলীর দুই তীরে দুই হাজার ২১২টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তরফে। এ কর্ণফুলী নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের খরচের বাজেট ছিল প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা, এখন এ নিয়ে শতকোটি হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট নেয়া হচ্ছে।। প্রয়োজনে চট্টগ্রামবাসী সহযোগিতা করবে। তারপরও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হবে।

এছাড়া তিনি চাক্তাই খাল আরো বলেন, চাক্তাই খাল নিয়ে সিটি করপোরেশন, সিডিএ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালের তীরে রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো–টলারেন্সে থাকবে জেলা প্রশাসন উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে দায়িত্ব নেয়ার পর পরই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার অনুরোধ করেছি। নতুন প্রজন্মদের মাদকের কুফল থেকে রক্ষা করতে স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সমাবেশ করা হবে। এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান ফেরদৌস বলেন, চট্টগ্রামের নামীদামী স্কুলের ছেলেদের হাতে ইয়াবা প্রতিনিয়ত পৌঁছে যাচ্ছে। আমাদের সন্তানদের কি হবে ?

স্কুল শিক্ষার্থীরাও এখন মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে জানালে জেলা প্রশাসক বলেন, স্কুলে স্কুলে অভিযান পরিচালনা করবো। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে মতবিনিময় করবো।

মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিবের দায়িত্বে ছিলাম। সেখান থেকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক করে পাঠানো হয়েছে। বর্তমান স্বরাষ্ট্র সচিব চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি আমাকে বলেছেন,‘তুমি চট্টগ্রাম যাচ্ছ। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

‘চট্টগ্রাম এসেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোন ধরনের সমস্যা থাকলে তাও জানাতে বলেছি। এ নিয়ে বলেছি,‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স।’

কিছু সরকারি ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বাদে বাকিগুলো উচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছেন হাইকোর্ট। আমি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করব। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উচ্ছেদের ব্যবস্থা করব।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা আবারও শুরু করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, নগরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধ রয়েছে কেন জানতে চাইলে আমার অফিসাররা সন্তোষজনক কোন উত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি আমি গুরুত্ব দিয়ে দেখবো।

এছাড়া চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক আরো বলেন, চট্টগ্রাম হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ঢাকার পর চট্টগ্রামের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে ডিসি মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, সমাজের দর্পন হচ্ছে সাংবাদিকরা।। তাদের লেখনি থেকে সরকার ও প্রশাসন নানা কার্যক্রম গ্রহণ করে। দেশের উন্নয়নে সাংবাদিকদের অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ–পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ইয়াছমিন আকতার তিরবীজি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. মমিনুর রশিদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীর, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ রুহুল আমীন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email