রাম দায়ের কোপে হাড় দুই টুকরা

অপহরন করে ধর্ষনের চেষ্টা, রাম দায়ের কোপে হাড় দুই টুকরা

নিজস্ব সংবাদদাতা :

অপহরণ করে ধর্ষন ও হত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার সন্দ্বীপ কলোনী এলাকায় । সন্দ্বীপ কলোনী থেকে ১০০ গজ দূরে তালতলা এলাকায়।এই জঘন্য অপরাধটি সংগঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের কোন সাহায্য সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগকারীরা ক্ষোভ জানিয়েছেন .

মোছাম্মৎ নার্গিস আক্তার,স্বামী মৃত মোহাম্মদ শাহাদাৎ ,পারভিন আক্তার (২৯) স্বামী – হারুনুর রশীদ বাবু, মোছাম্মৎ জ্যোৎস্না আক্তার (৪০)স্বামী আনিছ মিয়া, নিলুফা আক্তার (১৫) পিতা আব্দুল মান্নান।অভিযোগ করেন যে,গত ০৩/০৪/২০১৮ইং আনুমানিক সন্ধ্যা ৫ঘটিকার সময় কিছু এলাকার সন্ত্রাসী এবং তালিকাভুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী তাদের অপহরণ করে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়।ধর্ষন করতে না পেরে কুপিয়ে জখম করে হত্যা করতে চেষ্টা করে।এই ঘটনাটি ঘটেছে সন্দ্বীপ কলোনী থেকে ১০০ গজ দূরে তালতলায় এলাকায়।মারাত্মক জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে মূল অভিযোগকারী নার্গিস আক্তার।সন্ত্রাসীদের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে তার পায়ের হাড় ভেঙ্গে দুই টুকরা হয়ে যায়।

নার্গিস আক্তার বলেন, এই সব সন্ত্রাসীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় নানা ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ড করে থাকে ।এলাকার প্রভাবশালীদের মদদে এবং ক্ষমতার বলে নিজেরা এবং ভাড়াটে মাস্তান নিয়ে অপরাধ কর্মকান্ড করে থাকে নির্বিঘ্নে ।

অভিযোগকারীরা গত ১৩/০৪/২০১৮ ইং তারিখে মোহাম্মদ সুমন, পিতা মৃত মজিবুল হক হইতে ২ গন্ডা জমি দখল হস্তান্তরের চুক্তিনামা মূলে গ্রহন করিয়ে টিনের ঘর নির্মান করিয়া ভোগ দখলে আছেন।এলাকার সন্ত্রাসীরা দখলদার না হওয়া সত্বেও বেদখল করে অন্য কাউকে দখল দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে।

এই বিষয়ে হাটহাজারী থানা কর্তৃপক্ষকে অবগত করলে থানা এদত বিষয়ে কোনরূপ সুরাহা করতে অপারগতা প্রকাশ করে।অভিযোগকারী তার শশুরালয়ে থাকার সুবাদে সন্দ্বীপ কলোনীর উক্ত ঘরটি প্রায়ই খালি পড়ে থাকে এই সুযোগে আসামিগন স্ব-দলবলে গত ২৩/০৩/২০১৮ ইং সকাল ৯ ঘটিকায় নানা রকম আগ্নেয় ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘরটি ভাংচুর করে এতে আশেপাশের লোকজন তাকে বিষয়টি জানালে সে এসে ঘরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে পায় এবং অভিযোগ দায়ের করতে চাইলে ডিউটিরত পুলিশ অফিসার তাহাকে(ওসি অপারেশন) শামীম শেখের সাথে যোগাযোগ করতে বলে । নার্গিস আক্তার আরো অভিযোগ করেন, দেখা করে শামীম শেখকে সমস্ত ঘটনা খুলে বললে সে সহায়তা করেনি। নার্গিস আক্তার পুলিশের সহায়তা নাপেয়ে অসহায় হয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাহায্য কামনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা চালান।

কিন্তু সন্ত্রাসীদের ভয়ে আশে পাশে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায়নি। উল্লেখিত ঘটনার দিন বিকাল ৪ ঘটিকার সময়ে বাদী/অভিযোগকারী তাহার শশুরবাড়ির প্রতিবেশী জ্যোৎস্না আক্তার,নিলুফা আক্তার ও পারভিন আক্তারকে নিয়ে সন্দ্বীপ কলোনীর ঘরটি দেখতে যান এবং ঘন্টা খানেক সেখানে অবস্থান করেন, ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা সন্দ্বীপ কলোনী হতে ১০০ গজ দূরে তালতলা নামক স্থানে অস্ত্র সজ্জিত হয়ে থাকে পরে তিনটি সি,এনজি এর মধ্যে একটিতে নার্গিসকে , বাবন, মতিন,সোহেল,ইয়াসিন তুলে চোখেও মুখে গামছা বেধে ফেলে এবং নিলুফাকে আলাদা করে অন্যদিকে নিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়, পারভিন, নিলুফা কে সোহেল,পারভেজ,তুহিন,জাফর তুলে নিয়ে পারভিন,নিলুফা,জ্যোৎস্নাকে ১৫০ গজ দূরে সন্দ্বীপ কলোনীর মাদরাসার উত্তর পাশে নির্জন পূরাতন ঘরে চারপাশে দেওয়ালে ঘেরা ,উপরে টিন এমন একটি ঘরে নিয়ে যায় সেখানে তাদের সাথে আলাউদ্দিন ও মাসুম নামে আরো দুই জন যোগ দেয়।

পরে নার্গিসকে অন্যদের থেকে আলাদা করে সেখানে মতিন,সোহেল,ইয়াসিন উপস্থিত ছিল, নার্গিস আক্তার জানান, মুন্না,ফয়সাল,মঈনুল আসে সেখানে , সোহেলের হাতে রামদা এবং অন্য পাঁচ জনের হাতে ভারী অস্ত্র ছিল।ফয়সল নার্গিসকে জড়িয়ে ধরে বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে এবং পর ধর্ষন করার চেষ্টা চালায়, নার্গিস ধস্তাধস্তি করলে বাবন,ইয়াসিন,মতিন,মঈনুল চার জন মিলে দুই হাত চেপে ধরে রাখার চেষ্টা করে মাটিয়ে জোরপূর্বক শুইয়ে দেয় সেই অবস্থায় ফয়সল, ইয়াসিন,মতিন সাধ্যমতো চেষ্টা চালায় পরে মতিন,ইয়াসিন দুই হাত ও দুই পা চেপে ধরে সকলে মিলে একাধিকবার ধর্ষন করার চেষ্টা চালায় ।

সব ধরনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গলার চেইন ছিনিয়ে নেয়, তাদের কাছে নতি স্বীকার নাহলে সোহেল তার হাতে থাকা রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে উক্ত জখম মারাত্মক হয়ে হাড় দুই টুকরা হয়ে ফেটে যায় এবং ফিনকি দিয়ে রক্তপাত হতে থাকে, পিঠে রামদার উলটো পিঠ দিয়ে সজোরে আঘাত করে ।

অপহরনকারীরা নার্গিসকে বলে সে যেন সাক্ষী দেয় যে, যার কাছ থেকে জায়গা চুক্তিমূলে দখল নিয়েছে সেই ব্যক্তিই অপহরন করিয়েছে বলতে এবং মুন্না সেই কথা গুলা মোবাইলে ধারন করে রাখার চেষ্টা করেন। তখন অপহরণকারিরা নিজেরাই চৌধুরীহাট রতন ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে যায়।তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে হাটহাজারি আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসে , আধুনিক হাসপাতালে অপারগতা প্রকাশ করলে অক্সিজেন মোড়ে প্লাজমা প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায় । এদিকে তার ফুফাত ভাই মোবারক সহ আত্মীয় স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সাবেক কমিশনার জাফর ও হাটহাজারী থানায় খবর নেন।পরে মোবারক জানতে পারেন তার মামাতো বোন প্লাজমা হাসপাতালে আছেন এবং তাকে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে রেখেছে এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মোবারককে অসহযোগিতা করেন এবং মামলা না নিলে তিনি নিরুপায় হয়ে র‌্যাব-৭ এর সি,ই,ও বরাবরে ০৪/০৪/২০১৮ তারিখে একটি অভিযোগ দায়ের করেন তখন সি,ইউ,ও র‌্যাব এর নির্দেশে ০৫/০৪/২০১৮ ইং তারিখে প্লাজমা হাসপাতাল ঘেরাও করে নার্গিসকে উদ্ধার করেন ঐ সময় সন্ত্রাসী ও অপহরণকারী ইয়াসিন ও মঈনূলকে র‌্যাব আটক করেন।

অন্য দুই আসামি র‌্যাব এর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।নির্দিষ্ট মামলা না থাকায় আটককৃত দুই আসামিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং নার্গিস আক্তারকে চিকৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার দিন একই সময়ে নিলুফা,জ্যোৎস্না ও পারভিন জানান হালিম,মুনাফ,সোহেল,জাফর,পারভেজ,তুহিন সবাই মিলে তাদের তিন জনকে ধর্ষন করার জন্য বার বার চেষ্টা করে,শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে,গোপনাঙ্গে, বুকে ,ঠোটে , গলায় বার বার স্পর্শ করে শ্লীলতাহানি করে। কানের দুল, মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ।

তাদের অপহরনের দৃশ্য দেখে স্থানীয় সুমন নামে এক ব্যক্তি হাটহাজারী থানায় ফোন করলে ফোনে না পেয়ে হেল্প লাইনে ফোন করে রাত ১০টার সময় এস,আই রুহুল আমিন জ্যোতস্না, নিলুফা,পারভিনকে উদ্ধার করে ।

ভিকটিমরা অভিযোগ করে আরো বলেন, সন্ত্রাসী সোহেল নার্গিস আক্তারকে কুপিয়ে আবার এসে ধর্ষন করার বারবার চেষ্টা করে, গোপনাঙ্গে বারবার হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে।

নার্গিস আক্তার,নিলুফা, পারভিন, জ্যোতস্না আরো অভিযোগ করেন অপহরণকারীদের অস্ত্র সহ পেয়েও ছেড়ে দেয় পুলিশ এবং উলটো ০৪/০৪/২০১৮ ইং ১৯৩ নং জি,ডি মূলে ১৫১ ধারায় আদালতে চালান করে দেয়।

তারা বলেন আসামীদের সাথে পুলিশের সখ্যতার কারনেই ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত হন। এই অপহরণ , ধর্ষন চেষ্টা এবং শ্লীলতাহানির ঘটনা সম্পর্কে অভিযোগকারির আইনজীবী মোহাম্মদ পেয়ার হোসেন পেয়ারু বলেন, অপহরণের সময় স্থানীয় দোকানদার এবং, স্থানীয় প্রতিবেশিরা অপহরণকারিদের সনাক্ত করেছে এবং যথাসময়ে আদালতে সাক্ষ্যও প্রদান করবেন। তিনি আরো বলেন, অভিযোগকারিদের পুলিশ কোনরূপ আইনি সহায়তা না করে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করেছে এবং সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সহ পেয়েও ছেড়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন ভিকটিম সকলের সাথে কথা বলে, প্রয়োজনীয় আরো তথ্য নিয়ে আগামি রবিবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা ধারাঃ নারী ওশিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০৩ সংশোধিত ৭/৯/৪ এর (খ)/১০ ধারা,তৎসহ দন্ডবিধির ৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩৭৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email