অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে সন্তানকে নজরে রাখুন

অনলাইনে যৌন নির্যাতন বন্ধে পরিবার থেকে সন্তানদের সুশিক্ষা দিতে হবে। সন্তানরা স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ নিয়ে কি করছে, কোন ওয়েব সাইটে ঢুকছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কতটা সময় কাটাচ্ছে, সেই ব্যাপারে অভিভাকদেরই দৃষ্টি রাখতে হবে। এজন্য সময় এসেছে অনলাইন কার্যক্রমের ওপর অভিভাবকদের দক্ষ হওয়ার। না হলে তারা সন্তানদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতে পারবেন না।

বুধবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহীর মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট (এসিডি) উদ্যোগে অনলাইনে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত। এতে উপস্থিত বক্তারা এই মতামত প্রকাশ করেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সহযোগিতায় নিজ কার্যালয়ে এসিডি এ সভার আয়োজন করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি) প্রকল্প সমন্বয়কারী মনিরুল ইসলাম পায়েল।

সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এসিডির প্রোগ্রাম অফিসার হাফিজ উদ্দীন পিন্টু। মতবিনিময় সভায় ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং ট্যুরিজমের মাধ্যমে শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন এসিডি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আলী হোসেন।

উপস্থাপনায় বাংলাদেশে শিশুদের অবস্থা, শিশু ও নারী নির্যাতন পরিস্থিতি, অনলাইনে শিশুদের ওপর নির্যাতন ও শোষণ প্রক্রিয়া, অনলাইনে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয় বিষয়সমূহ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে সংবাদ মাধ্যমসহ (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া) অন্যান্য অংশীজনদের প্রতি কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এরপর মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, আমাদের শিশুদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ নয়, বরং নিরাপদ করার জন্য কিছু সতর্কতামূলক ও সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিশুরা কি ধরনের সাইটে প্রবেশ করবে এবং কি ধরনের সাইটে প্রবেশ করবে না, সে বিষয়ে তাদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়ার আগেই দিক নির্দেশনা ও সচেতন করতে হবে।

বক্তারা বলেন, ইন্টারনেটের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের শিশুদের রক্ষা করতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সব ধরনের প্রচারমাধ্যম, সুধীসমাজ, সংস্কৃতিজগত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সর্বোপরি রাষ্ট্রকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাই সব অংশীজনকে সমস্যার গভীরতা অনুধাবন করতে হবে, সমস্যা সমাধানে সমন্বিতভাবে করণীয়সমূহ ঠিক করতে হবে এবং এখনই কাজে নামতে হবে।

আর উচিত শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা। এছাড়া কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email